Role of Listening in Language Learning

চাকরি বাজারেরসাধারন জ্ঞান’ বিভাগে সকলকে স্বাগত। এই বিভাগে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি সমস্থ প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার উপযোগী জি. কে. বিষয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। আজকের পাঠে আমরা ভাষা শিখনে শ্রবণের ভূমিকা (Role of Listening in Language Learning) নিয়ে আলোচনা করলাম। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে নানান ধরনের প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। তাই আপনার সাধারণ জ্ঞানের ভান্ডার কে বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই এই অধ্যায়টি পড়ুন।

 Role of Listening in Language Learning 

 

 

  ভাষা শিখনে শ্রবণের ভূমিকা  – 

           মানুষের পারস্পরিক ভাব-বিনিময় বা যোগাযোগ সম্পূর্ণতা লাভ করে ভাষাদক্ষতার ওপর। শুধু মাতৃভাষা নয়, যে-কোনো ভাষায় শিক্ষাদান ও ভাষা শিক্ষণের দ্বারা জ্ঞানের প্রয়োগ মূলত চারটি দক্ষতার উপর নির্ভর করে, এই চার প্রকার দক্ষতা হল — ১) শ্রবণ (Listening), ২) কখন (Speaking), ৩) পঠন (Reading), ৪) লিখন (Writing)। এটি সংক্ষেপে L S R W নামে পরিচিত। এই চারটি নৈপুণ্যই একে অপরের উপর নির্ভরশীল ও পরিপূরকও বটে। এই চার প্রকার ভাষাদক্ষতার (language skills) প্রথমে স্থান দেওয়া হয় শ্রবণ (listening) কে। কারন ভাষা শিক্ষণে শ্রবণের ভূমিকা (Role of Listening in Language Learning) অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

          এখন প্রশ্ন হল, ‘শ্রবণ’ কী What is listening)? সহজ কথায় ভাষাকে কান দিয়ে মনোযোগ সহকারে শোনাকেই শ্রবণ বলে। যেকোনো ভাষায় শ্রবণের ক্ষেত্রে মনোযোগ (attention ) দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। এই প্রসঙ্গে বলা যায় ভালো বক্তা হতে গেলে ভালো শ্রোতা হওয়া প্রয়োজন। শ্রবণ মানুষকে পরিষ্কার কথা বলতে ও  সঠিক উচ্চারণ করতে শেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে একজন ব্যক্তির জীবনের অর্ধেক সময় ব্যয়িত হয় শ্রবণ কার্যে। এই শ্রবণকে মূলত ২টি ভাগে ভাগ করা যায়— ক)  একপাক্ষিক শ্রবণ, যেমন – রেডিও শোনা, দূরদর্শন দেখা, কোন রেকর্ডিং শোনা, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকের বক্তব্য শোনায় ইত্যাদি। খ) দ্বিপাক্ষিক শ্রবণ, যেমন – কোন বিতর্ক সভা যেখানে বক্তা ও শ্রোতা উভয়ই ভাবের আদান প্রদান করছেন। 

 

  ভাষা শিখনে শ্রবণ দক্ষতা বিকাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ – 

  • কিবলমাত্র শোনার জন্যই শ্রবন নয় মনোযোগ সহকারে বক্তব্যের নির্দিষ্ট তথ্য শ্রবণ করতে হবে। 
  •  শ্রবণের সময় আবেগ উচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করে, বক্তার চোখে চোখ রেখে, শারীরিক দিক থেকে হালকা ভাবে নতুন তথ্য গ্রহণ করার অভ্যাস করা দরকার। 
  • শ্রবণ দক্ষতা বিকাশের জন্য কথা বলার থেকে কথা শোনার দিকে বেশি সময় দিতে হবে। 
  •  শ্রবণের সময় বক্তা কিভাবে বলছে সে দিকে নজর দেওয়ার চাইতে বক্তা কি বলছে সেই দিকে বেশি মনোযোগ করা দরকার এবং বিভিন্ন বক্তৃতার ধরন, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদিতে প্রকাশিত বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনা দরকার।
  • দীর্ঘ সময় ধরে শ্রবণ করলে অনেক সময় শারীরিক ক্লান্তি অনুভূত হয়, তাই নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক তথ্য  সংগ্রহ করা উচিত।
  • ক্লাসে পড়ানোর সময় শিক্ষকের পঠন-পাঠন অনেক সময় নিরস প্রকৃতির হয়। যেটি শিক্ষার্থীদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই শিক্ষকের সরল সহজ ও সাবলীল পাঠদানের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।  
  • শিক্ষককে শ্রবণ সংক্রান্ত একঘেয়েমি কাটাতে শ্রেণীকক্ষে মাঝে মাঝে গল্প কাহিনী, আবৃত্তি, প্রশ্ন উত্তর পর্ব, সপ্তাহে অন্তত একদিন করে বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্ক সভা প্রভৃতি অনুষ্ঠান করানো উচিত। 
  • শিক্ষকের শ্রেণীকক্ষের শিক্ষাদানের সময় বাচনভঙ্গি সুন্দর হওয়া উচিত এবং পাঠদান স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া উচিত এটি শ্রবন দক্ষতাকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। 
  • বিদ্যালয়ের স্তরে শ্রবণের প্রতি তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই শিশুর শ্রবণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন শিক্ষা সহায়ক উপকরণ যেমন টেপ রেকর্ডার, কম্পিউটার, ক্যাসেট প্রভৃতির ব্যবহার বৃদ্ধি করা উচিত। 

 

 

 

 Model Question: 

 

 

 যে শ্রবণে শ্রোতার সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকে তাকে বলে। 

   (ক) বাধ্যতামূলক শ্রবণ

   (খ) মনোযোগ সহকারে শ্রবণ

   (গ) বর্ণনা মারফত শ্রবণ

   (ঘ) মনোযোগবিহীন শ্রবণ

 

 

 শ্রবণ ক্ষমতার একটি বৈশিষ্ট্য হল- 

   (ক) গতিশীলতা   (খ) সীমাবদ্ধতা

   (গ) অসীমতা     (ঘ) সবগুলি

 

 

শ্রবণের সময় ধ্বনিসমূহকে

   (ক) বার্তা  হিসেবে গ্রহণ করা হয়

   (খ) শব্দ  হিসাবে গ্রহণ করা হয়।

   (গ) আলাদা আলাদাভাবে  গ্রহণ করা হয়

   (ঘ) বাকা  হিসেবে গ্রহণ করা হয়

 

 

কার্যকরী শ্রবণের একটি শর্ত হল-

   (ক) মনোযোগ   (খ) প্রক্ষোভ 

   (গ) প্রেষণা        (ঘ) বুদ্ধি

 

 

শিক্ষার্থী তথ্য সংগ্রহ করে—

   (ক) শ্রবণ এবং লিখনের মাধ্যমে

   (খ) শ্রবণ এবং কথনের মাধ্যমে

   (গ) কথন ও লিখনের মাধ্যমে

   (ঘ) শ্রবণ এবং পঠনের মাধ্যমে

 

 

কোনো শ্রোতাকে যখন কিছু শুনতে বাধ্য করা হয় তখন তাকে বলে-

   (ক) বর্ণনা মারফত শ্রবণ

   (খ) স্বকর্ণে শ্রবণ

   (গ) বাধ্যতামূলক শ্রবণ

   (ঘ) স্বতঃস্ফূর্ত শ্রবণ

 

 

শ্রবণের ক্ষেত্রে যেটি সত্য নয় –

   (ক) শ্রবণের দক্ষতা মানুষকে সঠিকভাবে বলতে শেখায়

   (খ) শ্রবণের দক্ষতা অন্য মানুষের কথা শুনতে সাহায্য করে

   (গ) শ্রবণের দক্ষতা মানুষের স্মৃতিশক্তিকে বাড়িয়ে তোলে

   (ঘ) শ্রবণের দক্ষতা মানুষকে পরিষ্কারভাবে বলতে সাহায্য করে

 

 

শ্রবণ প্রক্রিয়ার প্রথমে—

   (ক) ধ্বনিসমূহকে বাক্যে পরিণত করা হয়

   (খ) ধ্বনিসমূহকে চিহ্নিত  করা হয়

   (গ) ধ্বনিসমূহকে বর্ণে পরিণত করা হয়

   (ঘ) ধ্বনিসমূহকে শব্দে পরিণত করা হয়

 

 

বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে ভাবের আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

   (ক) পঠনের   (খ) শ্রবণের

   (গ) কথনের   (ঘ) লিখনের

 

 

ভাষাশিক্ষার ক্ষেত্রে শ্রবণের-

   (ক) ভূমিকা নেই

   (খ) কোন গুরুত্ব নেই

   (গ) গুরুত্ব অসীম

   (ঘ) তাৎপর্য নেই

 

 

শ্রোতার মনোযোগের উপর শ্রবণের- 

   (ক) শ্রবণের তীব্রতা নির্ভর করে

   (খ) শ্রবণের শ্রুতিমাধুর্য নির্ভর করে

   (গ) স্থায়িত্ব নির্ভর করে

   (ঘ) শ্রবণের কার্যকারিতা নির্ভর করে

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।